ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন বরগুনা-এর আলু চাষিরা। পাইকার না আসা, জ্বালানি সংকটের অজুহাত এবং হিমাগার না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বরগুনায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমানো হলেও ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষকরা চরম সংকটে পড়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, দূর থেকে পাইকার না আসায় স্থানীয়ভাবে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান অনেক চাষি। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাইকাররা আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
এছাড়া জেলায় পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় আলু সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। ফলে ফসল তোলার পরই দ্রুত বিক্রি করতে হচ্ছে, যা বাজার দর কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাথরঘাটা উপজেলার এক কৃষক জানান, এ বছর প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ করেও আলু বিক্রি করে সেই টাকাও ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্য কৃষকরাও একই ধরনের ক্ষতির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পরিবহন ও জ্বালানি সংকটের কারণে পাইকারি ক্রেতাদের আগমন কমে গেছে, ফলে বাজারে সরাসরি চাহিদাও কমে গেছে।
অন্যদিকে জেলা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কোনো বড় প্রভাব নেই এবং পরিবহনের জন্য প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে কৃষকরা বলছেন, বাস্তবে তারা সেই সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। পাশাপাশি হিমাগার স্থাপন না হলে ভবিষ্যতেও এমন লোকসানের ঝুঁকি থেকে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে শুধু উৎপাদন নয়, বরং সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন।