ইপেপার / প্রিন্ট
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে এবং তাই তিনি পদত্যাগ করবেন না।
সোমবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, “আমি হারিনি, তাই পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে জয় পেয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা পালন করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতার এই অবস্থানের ফলে পশ্চিমবঙ্গে একটি সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজ্যের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে শেষ হওয়ার কথা, ফলে দ্রুত নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, অন্তত ১০০টি আসনে কারচুপি হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাব ছিল। তিনি নির্বাচন কমিশনকে ‘নোংরা খেলার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
এদিকে নিজের নির্বাচনী আসন ভবানীপুরে পরাজয়ের পর তিনি জানান, গণনাকেন্দ্রে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে নির্বাচন কমিশনের কিছু সূত্র জানিয়েছে, বিজয়ী দল সরকার গঠনের দাবি জানালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সমাধান সম্ভব।
এদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বিষয়টিকে ভারতের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলে।