ইপেপার / প্রিন্ট
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ প্রশাসনিক সংকট নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় এবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম-কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
রোববার শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে ক্লাস, পরীক্ষা, অফিস কার্যক্রমসহ পুরো ক্যাম্পাসে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ চলছিল। এর জেরে গত ২০ এপ্রিল থেকে টানা ১০ দিন আন্দোলন করেন শিক্ষকরা। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। পরে বিভাগীয় কমিশনার, উপাচার্য এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর আন্দোলন সাময়িকভাবে শিথিল করা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দেয়।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, বৈঠকে প্রচলিত আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং উপাচার্য একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে এগিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
শিক্ষকদের দাবি, গত ৮ মে রাত ১০টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভার নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরদিন বেলা ১১টায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেখানে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে এবং চলমান সংকট নিরসনে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি।
রোববার অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি পালন এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগ।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ না পাওয়ায় কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশীজনভিত্তিক প্রশাসনিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে সেশনজট আরও বাড়বে এবং একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
তবে এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।