ইপেপার / প্রিন্ট
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিপুল সংখ্যক বাস রিকুইজিশন করা হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং মালামাল পরিবহনের জন্য দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বাস সাময়িকভাবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ বাস চাওয়া হয়েছে তা মোট চলাচলকারী বাসের অন্তত ৮০ শতাংশ। সমিতির পক্ষ থেকে দূরপাল্লার (লং রুট) বাসগুলো রিকুইজিশনের বাইরে রাখার অনুরোধ জানানো হলেও সেটি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “শুধু ঢাকাতেই আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার বাস রয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার বাস নিয়ে নেওয়া হলে সাধারণ যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। এত সংখ্যক বাসের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।”
বাসচালক ও হেলপাররা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল। রিকুইজিশনের সময় মালিকরা ক্ষতিপূরণ পেলেও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ও খোরাকি ভাতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন সমিতির মহাসচিব। তিনি বলেন, “মালিকদের ক্ষতিপূরণ কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু শ্রমিকদের আয় বন্ধ হওয়া চলবে না।”
সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে রাজধানীতে প্রায় পাঁচ হাজার এবং সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বাসের চাহিদা জানানো হয়। সে অনুযায়ী গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ৭ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব বাস রিকুইজিশনের আওতায় থাকবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ১০৩-ক ধারায় উল্লেখ রয়েছে, পুলিশ কমিশনারের লিখিত আদেশে জনস্বার্থে সর্বোচ্চ সাত দিনের জন্য যেকোনো যানবাহন রিকুইজিশন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মালিককে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে যানবাহন ব্যবহারের বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যানবাহন রিকুইজিশনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করে স্থানীয় ভাড়া বা হারের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রিকুইজিশন করা বাসের জ্বালানি ব্যয় পুলিশ বহন করবে। চালকরা খোরাকি ভাতা পাবেন এবং মালিকপক্ষ বিল দাখিল করলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হবে।
হঠাৎ বিপুল সংখ্যক বাস রিকুইজিশনের ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে যাত্রীসাধারণকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীরা বিকল্প পরিবহনের সংকটে পড়তে পারেন।
নির্বাচন শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করলেও, এই সময়ের মধ্যে পরিবহন সংকট কীভাবে সামাল দেওয়া হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।