ইপেপার / প্রিন্ট
খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, দেশের নিরাপদ খাদ্য মজুদের লক্ষ্যমাত্রা যেখানে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন, সেখানে বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে ২২ লাখ ১০ হাজার টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। ফলে দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন সরকারকে তাৎক্ষণিক কোনো জরুরি বা তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, চলতি বছরসহ গত ছয় বছরের খাদ্য পরিস্থিতির তুলনামূলক একটি প্রতিবেদন ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহর রহমতে বর্তমানে দেশের খাদ্য মজুদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। “আমি সবসময় বলেছি, আমরা দায়িত্ব ছাড়ার সময় যতটুকু খাদ্য মজুদ থাকার কথা, ইনশাআল্লাহ তার চেয়েও বেশি রেখে যাব। আজ সেই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারি খাদ্য মজুদ পর্যাপ্ত রাখতে যেসব কর্মসূচি চালু রয়েছে, সেগুলো অব্যাহত থাকবে এবং কোনো কর্মসূচি ব্যাহত হবে না। “এই চেয়ারে যিনি দুই-একদিন পর বসবেন, তাকে কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। তিনি সময় নিয়ে ধীরস্থিরভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবেন,”—যোগ করেন আলী ইমাম মজুমদার।
ব্রিফিংয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রসঙ্গেও কথা বলেন খাদ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ডিজিটালাইজেশন। বর্তমান ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই খতিয়ান ও নকশা সংগ্রহ করতে পারছেন। ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান এবং নামজারিও (মিউটেশন) অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। এসব সেবাকে আরও জনবান্ধব ও বিস্তৃত করতে একাধিক প্রকল্প চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ভূমি অফিসে গিয়ে সাধারণ মানুষ যে ভোগান্তির শিকার হন, তা টেকসই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে ধীরে ধীরে দূর করার লক্ষ্যে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান।
ভূমি রেজিস্ট্রেশনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তোলা হয়েছিল এবং উপদেষ্টা পরিষদ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে সফল হওয়া যায়নি। “আমি কাউকে দায়ী করব না। এই ব্যর্থতার দায়ভার আমি নিজেই নিচ্ছি,”—বলেন তিনি।
নিজের সম্পদ বিবরণী সংক্রান্ত প্রশ্নে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি দুই অর্থবছরেই নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছেন এবং আয়কর বিভাগে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন। সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে তিনি নিজে পিএস পাঠিয়ে যাচাই করিয়েছেন এবং সবকিছু যথাযথ রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন।
বিগত সংকটময় পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আলী ইমাম মজুমদার বলেন, তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, বরং ১২ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। সে সময় দেশের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অস্থিতিশীল। রাস্তাঘাটে পুলিশ ছিল না, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করেছিলেন এবং কেউ কেউ আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। এমনকি প্রশাসনের একটি অংশও দায়িত্ব এড়িয়ে চলছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “বিগত সরকারের সঙ্গে অনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সাহস পাচ্ছিলেন না। সেই সংকটময় অবস্থা থেকে দেশকে বের করে আনার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।”
ব্রিফিংয়ের শেষদিকে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতা থাকলেও সেই ব্যর্থতার দায়ভার তিনি নিজেই গ্রহণ করছেন।