ইপেপার / প্রিন্ট
লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ তুলে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেওয়া এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যখন স্বৈরাচারমুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সংস্কারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নামধারী নেতাকর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে। লালমনিরহাট, মনোহরগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, লক্ষ্মীপুর, যশোর ও শরীয়তপুর—এই ছয়টি স্থানে নারীদের ওপর সংঘটিত হামলাকে তারা ‘বর্বর ও অমানবিক’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বিশেষ করে লালমনিরহাটে এক নারীর হিজাব টেনে খোলার ঘটনায় জড়িত যুবদল নেতার আচরণকে চরম ধৃষ্টতা উল্লেখ করে শিবির নেতারা বলেন, এটি শুধু একজন নারীর ওপর হামলা নয়, বরং নারীর সম্মান ও মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত। একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি টাঙ্গাইলেও ঘটেছে উল্লেখ করে তারা দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি বিএনপি ও ছাত্রদলের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতেও এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। ২০০২ সালে বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন্নাহার সনি হত্যাকাণ্ড এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ও রোকেয়া হলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাগুলোর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তারা। পাশাপাশি, অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেড় বছরে অর্ধশতাধিক ধর্ষণ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার খবর গণমাধ্যমে এসেছে বলেও দাবি করা হয়।
শিবির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, কুরআন বিতরণ ও ধর্মীয় তালিম কার্যক্রমে অংশ নেওয়া পর্দানশিন নারীদের ওপরও বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষায়, “যারা মা-বোনদের সম্মান দিতে পারে না, তারা কখনোই দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়।”
সংবাদমাধ্যম ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, একদিনে ছয়টি স্থানে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও মূলধারার সংবাদমাধ্যমের নীরবতা এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক। তারা দাবি করেন, নতুন বাংলাদেশে সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কোনো জায়গা নেই।
বিবৃতির শেষে লালমনিরহাটে হিজাব অবমাননার ঘটনায় জড়িতদেরসহ সব হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় ছাত্রশিবির।