দেশে বর্তমানে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বিপুল সংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করায় নতুন শিল্পায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীল খাত সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।
বুধবার (১০ জুন) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জার্মানির এশিয়া প্যাসিফিক বিষয়ক মহাপরিচালক ফ্রাংক হার্টম্যান-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু রপ্তানি নয়, নতুন শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, লাইসেন্স ও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং অবকাঠামো উন্নয়ন অন্যতম।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হবে।
অন্যদিকে জার্মান প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করে। তারা বলেন, জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ, সবুজ প্রযুক্তি এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণ, জিএসপি প্লাস সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়।
উভয়পক্ষ জ্বালানি রূপান্তর, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ–জার্মানি সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।