ইপেপার / প্রিন্ট
রাজনৈতিক পদ-পদবির লোভ নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই একটি শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার-এ আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল-এর এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, সংগঠনটি কেবল নামের আগে কোনো পদবি যোগ করার জন্য বা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হচ্ছে না। বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে কাজ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফলে অনেকেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাবে। তবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত আদর্শ ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতেই সংগঠনে নেতৃত্ব বাছাই করা হবে।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তি নানা সময় দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে। গত ১৭ বছরে দেশকে সহিংসতা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, এমন একটি সংগঠন গড়ে তোলা হবে যাতে দেশের কোনো সংকটময় মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম সবার আগে দেশের পক্ষে দাঁড়াতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বসূরিরা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। ভবিষ্যতে দেশ কোনো হুমকির মুখে পড়লে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম যেন ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারে—সেই লক্ষ্যেই আমরা দেশব্যাপী সংগঠনটি গড়ে তুলছি।’
তিনি আরও জানান, সংগঠনটিকে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার কোনো পরিকল্পনা নেই। পবিত্র রমজান মাস চলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমিত রাখা হয়েছে। তবে ঈদুল ফিতর-এর পর সংগঠনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনসহ জেলা, মহানগর ও বিভিন্ন ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল-এর সভাপতি ইশতিয়াক আজিজুল উলফাত এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্যসচিব কে এম কামরুজ্জামান নান্নুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।