মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি বলেছেন, দেশের মানুষের কল্যাণই সরকারের সব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। তাই জনগণের প্রতি প্রশাসনের সেবা হতে হবে ডেডিকেটেড বা নিবেদিত। তিনি জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, সবসময় মনে রাখতে হবে—সবার আগে মানুষ।
রোববার রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন–এ চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সরকারের নীতিমালা, উন্নয়ন কর্মসূচি ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক সম্মেলন মাঠ প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মধ্যে সরাসরি সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি বহুমাত্রিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে ‘ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর’ হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে জেলা প্রশাসকরা প্রশাসন, উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবার বহুমুখী দায়িত্ব পালন করছেন।
ড. নাসিমুল গনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার পরিবারকেন্দ্রিক উন্নয়ন ধারণা নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি জানান, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী বা ভাতা চালুর পাইলট প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকদের সময়োপযোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।