ইপেপার / প্রিন্ট
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) রাসায়নিক বালাইনাশকের অতিমাত্রায় ব্যবহারের প্রভাব কমিয়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশীয় ছত্রাক ব্যবহার করে জৈব বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মশালার শিরোনাম ছিল:
“একাডেমিয়া–শিল্প সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের জন্য দেশীয় কীটরোগকারী ছত্রাক (এপিএফ) ভিত্তিক বাণিজ্যিক জৈব বালাইনাশক উন্নয়ন”।
এটি HEAT (হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন) ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় একাডেমিক ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (ATF) প্রকল্পের অর্থায়নে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ: ৩ বছর।
লক্ষ্য: দেশীয় ছত্রাক ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর জৈব বালাইনাশক তৈরি করা।
বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “গবেষণার প্রযুক্তি যেন মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও বাণিজ্যিকীকরণ সফল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও র্যাংকিং বৃদ্ধিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।”
লাল তীর সিড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, “একাডেমিক গবেষণাকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে আসাই প্রকল্পের মূল চ্যালেঞ্জ। পণ্য বাজারে ছাড়ার আগে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হবে। আমাদের টিম পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করবে এবং মাঠপর্যায়ে ট্রায়াল পরিচালনা করবে।”
প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার জানান:
দেশীয় এন্টোমোপ্যাথোজেনিক ছত্রাক (এপিএফ)-এর কার্যকর স্ট্রেইন শনাক্ত, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা।
বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য জৈব বালাইনাশক উৎপাদন।
নিরাপদ সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস।
আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা বৃদ্ধি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা রাণী দে সভাপতিত্ব করেন।
উপস্থিত বিশেষ অতিথিরা: কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিক আহমেদ খান।
স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক অধ্যাপক ড. মো. আমীর হোসেন।
কর্মশালায় বক্তারা একাডেমিক গবেষণা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই উদ্ভাবন সফল হলে বাংলাদেশের কৃষিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।