ইপেপার / প্রিন্ট
বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে রয়েছে আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া। দুর্নীতির ধারণা সূচক (করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স—সিপিআই) ২০২৫-এ ১০০ স্কোরের মধ্যে দেশ দুটি পেয়েছে মাত্র ৯ পয়েন্ট।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সূচকটির বিস্তারিত তুলে ধরেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মো. ইফতেখারুজ্জামান।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা। তৃতীয় অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরিত্রিয়া। বাংলাদেশের অবস্থান এই তালিকায় ১৩তম।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক জানান, সিপিআই ২০২৫ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৪। যদিও এটি আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি, তবে গত ১৪ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।
টিআইবির প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ১৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে নিকারাগুয়া ও সুদান। পঞ্চম অবস্থানে যৌথভাবে রয়েছে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, উত্তর কোরিয়া ও সিরিয়া, যাদের স্কোর ১৫। ১৬ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে আফগানিস্তান, হাইতি ও মিয়ানমার। ১৭ স্কোর নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে বুরুন্ডি ও তুর্কিমেনিস্তান।
এ ছাড়া ১৯ স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে তাজিকিস্তান, ২০ স্কোর নিয়ে নবম অবস্থানে যৌথভাবে কম্বোডিয়া ও কঙ্গো এবং ২১ স্কোর নিয়ে দশম অবস্থানে রয়েছে গিনি-বিসাউ ও মোজাম্বিক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশ প্রথমবার এই সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয় ২০০১ সালে। সে সময় তালিকায় মোট ৯১টি দেশ ছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের এবং পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।