ইপেপার / প্রিন্ট
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও রাজধানী ঢাকায় তেল সংকট ও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থামছে না। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, কোথাও তেল বিক্রি বন্ধ, আবার কোথাও সীমিতভাবে বিক্রি হলেও গাড়ির দীর্ঘ সারি সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তেজগাঁও লিংক রোডের শিকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে ব্যক্তিগত গাড়ির চালক শিপুলকে রাত ২টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ অপেক্ষায় তিনি রাত কাটিয়েছেন গাড়িতেই। দুপুর দেড়টার দিকে কথা হলে তিনি জানান, “১২ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, এটা এখন আমাদের কাজের অংশ হয়ে গেছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। যেসব স্টেশনে বিক্রি চলছিল, সেখানেও অন্তত শতাধিক গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
ডিআইটি রোডের হাজীপাড়া ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেন না থাকার ঘোষণা দিয়ে সাইনবোর্ড টাঙানো ছিল। কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে তেল এলে সন্ধ্যার পর বিক্রি শুরু হতে পারে। তবে সকাল থেকেই সেখানে শত শত গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
একইভাবে তেজগাঁও এলাকার আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনে গেট শিকল দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয় এবং জানানো হয় ডিপো থেকে তেল আসার পরই বিক্রি শুরু হবে। সেখানে গাড়ির লাইন হাতিরঝিল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়।
লাইনে থাকা চালক সেলিম বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সংসদে বলা হয় তেল আছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা ভোগান্তিতে পড়ি। কার কথা ঠিক, বুঝতে পারি না।”
অন্যদিকে কিছু ফিলিং স্টেশনে সীমিত আকারে তেল বিক্রি চললেও সেখানেও চাপ ছিল ব্যাপক।
জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে—ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল, ফার্নেস অয়েল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি স্টকে আছে। তবে মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার কারণে সংকটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন চালকরা।
এ অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও চালকদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে, যা দ্রুত সমাধানের দাবি উঠেছে।