ইপেপার / প্রিন্ট
দাম্পত্য ভাঙনের পেছনে বাড়ছে পরকীয়ার প্রভাব
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা |
সমাজে দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দিন দিন পরকীয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সমাজবিদ ও পারিবারিক পরামর্শকরা। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এই প্রবণতাকে আরও তীব্র করছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
সম্প্রতি বিভিন্ন পারিবারিক আদালত ও কাউন্সেলিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙনের মামলায় পরকীয়া একটি উল্লেখযোগ্য অভিযোগ হিসেবে উঠে আসছে। একজন পারিবারিক পরামর্শক জানান, “আগে সন্দেহ থাকলেও প্রমাণ পাওয়া কঠিন ছিল। এখন মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে সম্পর্ক গোপন রাখা যেমন সহজ, তেমনি ধরা পড়াও সহজ হয়ে গেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক যোগাযোগের অভাব, মানসিক দূরত্ব, দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি এবং পারিবারিক সময়ের সংকট পরকীয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাব শুধু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; সন্তানদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলে পরকীয়াজনিত পারিবারিক সংকট তুলনামূলকভাবে বেশি। গবেষণায় অংশ নেওয়া একজন সমাজবিজ্ঞানী বলেন, “নৈতিক শিক্ষা ও সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধতা কমে যাওয়ায় এই সমস্যা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিচ্ছে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, পরকীয়া সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য না হলেও এটি বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে পরিবার ভাঙনের পাশাপাশি সামাজিক অবিশ্বাস ও মানসিক চাপ বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিং গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাদের মতে, সচেতনতা ও মূল্যবোধের চর্চাই পারে পরকীয়ার নেতিবাচক প্রভাব কমাতে।