জামালপুরে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে গৃহীত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পটি দীর্ঘদিনেও পূর্ণতা না পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। অবকাঠামোর বেশিরভাগ কাজ শেষ হলেও এখনো শুরু হয়নি হাসপাতালের মূল ভবনের নির্মাণকাজ, যা পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, তৎকালীন সরকার শহরের মনিরাজপুর এলাকায় প্রায় ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে প্রকল্পটির নামকরণ করা হয় Jamalpur Medical College and Hospital। ইতোমধ্যে কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হল, চিকিৎসকদের ডরমেটরি, নার্সিং কলেজ ভবন, মর্গ, মসজিদ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে।
তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মূল হাসপাতাল ভবনের নির্মাণ এখনো শুরু হয়নি। এই ভবনেই রোগীদের ওয়ার্ড, কেবিন, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি ল্যাবসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা, যার মধ্যে হাসপাতালের মূল ভবন নির্মাণে ব্যয় নির্ধারিত ২৭১ কোটি টাকা। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এক দশক পার হলেও প্রকল্পটি এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
বর্তমানে Jamalpur জেলার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালটিতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। শুধু জামালপুরই নয়, পাশের Sherpur, Kurigram এবং Gaibandha জেলার বহু রোগীও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে অনেককেই বাধ্য হয়ে Mymensingh Medical College Hospital কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয়ের চাপ বাড়াচ্ছে।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, নতুন হাসপাতাল চালু হলে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হতো এবং ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত। মেলান্দহ থেকে আসা এক রোগী জানান, বহু বছর ধরে শুনে আসছেন নতুন হাসপাতালের কথা, কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। একইভাবে এক শিশুর মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিবেশ নেই, নতুন হাসপাতাল দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই প্রকল্পের বিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে ভবিষ্যতের আশায় ব্যবসা শুরু করলেও দীর্ঘসূত্রিতায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের স্থানীয় নেতারা দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সব অবকাঠামো তৈরি হয়ে গেলেও মূল হাসপাতাল ভবনের কাজ শুরু না হওয়া দুঃখজনক।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু সাঈদ মাহবুব জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৬৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু জটিলতার কারণে হাসপাতাল ভবনের কাজ শুরু করা যায়নি, তবে এখন সেই বাধা দূর হয়েছে এবং খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও যখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে, তখন জামালপুরসহ আশপাশের প্রায় ২৬ লাখ মানুষের প্রত্যাশা—দ্রুতই চালু হবে এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, আর মিলবে কাঙ্ক্ষিত উন্নত স্বাস্থ্যসেবা।