পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রা ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বাঙালির এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশ নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিকরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ শোভাযাত্রা শাহবাগ হয়ে দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা উপভোগ করতে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। এর মধ্যে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন বিদেশি কূটনীতিকরা।
এদিন উপস্থিত ছিলেন মাইকেল মিলার এবং হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন। তারা সপরিবারে এসে শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এছাড়াও ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও এতে অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) জানান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা সপরিবারে শোভাযাত্রা দেখতে এসেছেন এবং পুরো আয়োজনটি তারা উপভোগ করেছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই শোভাযাত্রার নাম নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। একসময় “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামে পরিচিত এই আয়োজন ২০২৫ সালে “বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা” নামে অনুষ্ঠিত হয়। আর চলতি বছর এটি “বৈশাখী শোভাযাত্রা” নামে আয়োজন করা হয়েছে।
বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষের সূচনা হয়, আর তার পরেই এই শোভাযাত্রা হয়ে ওঠে দিনটির প্রধান আকর্ষণ। বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতি এ আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।