বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্যাপনে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় এক বর্ণিল উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। এ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দু বৈশাখী শোভাযাত্রা এবার পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা, যেখানে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের বিদেশি কূটনীতিকরা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রা উপভোগ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ে-এর রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হন। তারা রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ এলাকায় অবস্থান নিয়ে শোভাযাত্রার বর্ণিল আয়োজন উপভোগ করেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাদের শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত মোবাইল ফোনে ধারণ করতে এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়। এছাড়াও ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
শোভাযাত্রার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিদেশি অতিথিদের সার্বিক দেখভাল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। তিনি জানান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা পরিবারসহ এ সাংস্কৃতিক আয়োজন উপভোগ করতে এসেছেন।
এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল—“নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান”। শোভাযাত্রাটি চারুকলার ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ হয়ে দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি ঘুরে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ শোভাযাত্রার নাম নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। একসময় “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামে পরিচিত এই আয়োজন ২০২৫ সালে “বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা” নামে অনুষ্ঠিত হয়। আর চলতি বছর তা নতুনভাবে “বৈশাখী শোভাযাত্রা” নামে আয়োজিত হলো।
সব মিলিয়ে, ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন শুধু দেশীয় সংস্কৃতির উৎসব হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল উপস্থাপনা হিসেবে উঠে এসেছে।