ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচনে আগ্রহ প্রকাশ করে এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে একটি আদর্শ ও বাসযোগ্য এলাকা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সবার জন্য ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়া হবে, যেখানে নিরাপত্তা, সুশাসন ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর উত্তর কাফরুল হাই স্কুল প্রাঙ্গণে ঢাকা-১৫ আসনে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি এই এলাকাকে অন্তর থেকে ধারণ করেন এবং দেশ নিয়ে যেমন স্বপ্ন দেখেন, তেমনি এই এলাকা নিয়েও আলাদা স্বপ্ন রয়েছে। এখান থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তার দায়িত্ববোধ আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার প্রতিটি সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে দেখছেন এবং সমাধানের পথ খুঁজছেন।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যদি সুযোগ দেন এবং জনগণের রায়ে নির্বাচিত হতে পারেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ ঢাকা-১৫ আসনকে একটি আদর্শ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। শান্তিপূর্ণ, ভদ্র ও সম্মানজনক রাজনীতির মধ্য দিয়েই উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে তার একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন এবং সবাইকে তিনি স্বাগত জানান। তিনি আহ্বান জানান, সবাই যেন শালীনতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রচার চালান এবং জনগণের ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেন।
গণসংযোগ শেষে তিনি বলেন, মিরপুর ও কাফরুলসহ পুরো ঢাকা মহানগরীকে একটি নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে; যেখানে জান, মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা থাকবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, শিশু পার্ক, খেলার মাঠ ও সবুজায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে এবং ব্যবসায়ীরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবেন—এমন পরিবেশ তৈরি করা হবে। আধিপত্যবাদ মোকাবেলায় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মিরপুরকে সংগ্রাম ও প্রতিবাদের প্রতীক উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একসময় এই এলাকা আন্দোলনের দুর্গ হলেও আজ তা অবহেলা, দখলদারি, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অপরাধের শিকার। বিশুদ্ধ পানির সংকট, বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দখল হয়ে যাওয়া খাল ও অচল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন—এই দুর্ভোগ কি এলাকাবাসীর প্রাপ্য ছিল?
যানজট, ফুটপাত দখল, অপরিকল্পিত বাস চলাচলকে পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনার ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পেলে বাস রুট ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে, মেট্রোরেলের পরিসর বাড়ানো হবে এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছিনতাই, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের কারণে নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘর থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি, শক্তিশালী কমিউনিটি পুলিশিং এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন তিনি।
আবাসন সংকট, বস্তি এলাকার ঝুঁকি ও অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা উচ্ছেদে নয়, বরং নিরাপদ ও মানবিক বস্তি উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পক্ষে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, সময়মতো ময়লা অপসারণ এবং আধুনিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সবশেষে তিনি এলাকাবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভ্যর্থনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণসংযোগকালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।