ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ৫০০ টাকার তেল নেওয়ার জন্য ক্রেতারা ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করেও আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোডে অবস্থিত আইডিয়াল ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মাত্র ৫০০ টাকার তেল পান। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হলে অনেকেই রেইনকোট বা ছাতা ব্যবহার করে লাইনে থাকলেও অনেকে ভিজতে ভিজতে তেলের জন্য অপেক্ষা করেন।
দৈনন্দিন সমস্যা:
- চালকরা বলছেন, প্রতিদিন অন্তত ৫০০ টাকার তেল লাগে, কিন্তু দেশের সব পাম্পে সরবরাহ না থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়।
- ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা মাইকে ঘোষণা দিচ্ছেন, “তেল প্রায় শেষ, বিশৃঙ্খলা করবেন না।”
সরকারি ব্যাখ্যা:
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ বৈশ্বিক তেলের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। তবে সরকার বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে মজুত তেলের পরিমাণ:
- ডিজেল: ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন (এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার টন আসবে)
- অকটেন: ১০,৫০০ টন (এপ্রিলের মধ্যে আরও ৭১,৪৩৩ টন আসবে)
- পেট্রোল: ১৬,০০০ টন (এপ্রিলের মধ্যে আরও ৩৬,০০০ টন যুক্ত হবে)
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও কষ্টে আছে; পাকিস্তান তেলের দাম ৫০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে, শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে এবং ভারতসহ অন্যান্য দেশও তেলের মূল্য বাড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো মূল্য স্বাভাবিক রেখেছে।