ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণে সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সংসদ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের কেন্দ্র।”
রোববার (২৯ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম মুলতবি বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। তার বক্তব্যে তিনি এবারের সংসদকে ‘মজলুমদের সংসদ’ ও ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সংবিধান ও কার্যপ্রণালী অনুযায়ী সংসদ পরিচালনার ঘোষণা দেন।
ডেপুটি স্পিকার শুরুতেই সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এর অবদান স্মরণ করেন। খালেদা জিয়ার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
ডেপুটি স্পিকার ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানকে গণতন্ত্রের নতুন দ্বার হিসেবে তুলে ধরে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে জনগণের শক্তিই গণতন্ত্রের প্রকৃত ভিত্তি।”
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ইতোমধ্যে সরকার ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং প্রতিটি সদস্যের অধিকার, মর্যাদা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করবেন। হযরত আবু বকর (রা.)-এর আদর্শ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তিনি সঠিক থাকলে সাহায্য পাবেন, ভুল হলে শুধরে দেবেন।
ডেপুটি স্পিকার সংসদের বিশেষত্ব উল্লেখ করে বলেন, এখানে অনেকেই এসেছে গুম, দীর্ঘ নির্বাসন বা দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে, ফলে সবাই মজলুম হিসেবে সমবেত হয়েছে। এছাড়া আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, সরকার বা জনগণ সবাইকে আইনের অধীনে থাকতে হবে বলে এভি ডাইসির উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান এবং সংসদকে জাতির দর্পণ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।