ইপেপার / প্রিন্ট
আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। মশা নিধনে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশকের কার্যকারিতা যাচাই করতে একাধিক ল্যাবে সমন্বিত পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) গুলশান নগর ভবনে অনুষ্ঠিত মশক নিয়ন্ত্রণ কারিগরি কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
সভায় প্রশাসক জানান, মশা নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন ভিন্ন কীটনাশকের সমন্বিত ব্যবহার পরীক্ষা করে তার ফলাফলের ভিত্তিতে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সভায় সতর্ক করে বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত ‘টেমিফস’ কীটনাশকের বিরুদ্ধে বিশ্বের কিছু দেশে মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই বিকল্প ও অধিক কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে বের করা জরুরি।
কীটতত্ত্ববিদদের মতে, নোভালিয়ন, ম্যালাথিয়ন ও টেমিফস—এই তিন ধরনের কীটনাশকের পরীক্ষায় ম্যালাথিয়ন তুলনামূলক ভালো ফল দিয়েছে। পাশাপাশি জৈবিক পদ্ধতি (বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল) এবং বিটিআই ব্যবহারের সম্ভাবনাও বিবেচনায় আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, প্রচলিত ফগিং কার্যক্রম সবসময় কার্যকর ফল দেয় না। তাই ধীরে ধীরে ফগিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস (সোর্স রিডাকশন) এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিএনসিসি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ভিত্তিতে কীটনাশক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।