ইপেপার / প্রিন্ট
ট্রাম্পের বিতর্কিত ১৮০ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা, সিনেটে বাড়ছে বিভক্তি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৮০ কোটি ডলারের বিতর্কিত “অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন” তহবিল নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে অবকাশ শেষে সিনেটে ফেরার পর রিপাবলিকান সিনেটরদের সামনে বড় একটি সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে—তারা কি ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে সমর্থন করবেন, নাকি প্রেসিডেন্টের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে আপত্তি তুলবেন।
প্রস্তাবিত এই তহবিলের উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সরকারি পদক্ষেপ বা কথিত “রাজনৈতিক অস্ত্রায়নের” শিকার ব্যক্তিদের করদাতাদের অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। তবে সমালোচকদের মতে, এই তহবিল রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সুবিধা দিতে ব্যবহার হতে পারে।
সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রায় অর্ধেক সদস্য সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের সঙ্গে এক বৈঠকে এ বিষয়ে আপত্তি তোলেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী উত্তপ্ত বৈঠকের পর দলীয় নেতৃত্বকে ৭২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিলের ভোট স্থগিত করতে হয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অর্থায়নের জন্য আনা হয়েছিল।
সিনেটের কিছু সদস্য চান, তহবিলের ব্যবহার ও পরিচালনা নিয়ে স্পষ্ট লিখিত নীতিমালা থাকুক। তারা তহবিলের যোগ্যতা নির্ধারণ, কমিশনার নিয়োগে কংগ্রেসের ভূমিকা এবং বিচারিক তদারকির মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
উইসকনসিনের রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসন তহবিলের প্রতি সমর্থন জানালেও বলেন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে যা সিনেট সদস্যদের উদ্বেগ দূর করতে পারে।
এদিকে তহবিলটি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে কারণ এটি ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর বিভাগ (IRS)-এর মধ্যে একটি আইনি সমঝোতার ফল। ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে তার করসংক্রান্ত নথি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করা হয়েছে এবং এ জন্য তিনি ১০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিলেন।
সমালোচকদের আশঙ্কা, এই তহবিল থেকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলায় অংশ নেওয়া ট্রাম্প সমর্থকদেরও অর্থ প্রদান করা হতে পারে। যদিও টড ব্লাঞ্চ সিনেটরদের আশ্বস্ত করেছেন যে ট্রাম্প পরিবারের সদস্য বা সহিংস অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা এ তহবিল থেকে কোনো অর্থ পাবেন না। তবে অনেক আইনপ্রণেতা এসব নিশ্চয়তা লিখিত আকারে চান।
শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক সাময়িকভাবে প্রশাসনকে এই তহবিল কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বিষয়টি এখন আইনি জটিলতার মধ্যেও পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই তহবিল রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। মূল্যস্ফীতি, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের মতো বিষয়গুলো এমনিতেই দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
একজন রিপাবলিকান কৌশলবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কেউই মনে করে না এটি নির্বাচনে জেতার মতো কোনো ইস্যু। এমনকি নিরাপদ আসনের রিপাবলিকানরাও এ বিষয়ে অস্বস্তি বোধ করছেন।”
এদিকে সম্প্রতি রিপাবলিকান সিনেটর জন করনিন ও বিল ক্যাসিডির রাজনৈতিক পরাজয়ের ঘটনায় দলের ভেতরে ক্ষোভ ও উদ্বেগও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দলের ভিন্নমতাবলম্বীদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসে তহবিলটির ওপর কঠোর নজরদারির দাবি জোরালো হচ্ছে। রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ফ্লাড বলেছেন, কংগ্রেসের কার্যকর তদারকি ছাড়া তিনি এ তহবিল সমর্থন করবেন না।
আইওয়ার রিপাবলিকান প্রতিনিধি মারিয়ানেট মিলার-মিকসও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “এই তহবিল কীভাবে পরিচালিত হবে, কে সিদ্ধান্ত নেবে এবং অর্থ কোথায় যাবে—এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।”
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই তহবিল এখন শুধু একটি আর্থিক উদ্যোগ নয়, বরং রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্যও একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।