ইপেপার / প্রিন্ট
মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ঘোষণা করার সময় যে পরিস্থিতি ছিল, তা এখন ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দেওয়ার পর ভারতের শেয়ারবাজার চাঙা হয়েছে এবং ডলারের বিপরীতে রুপির মান শক্তিশালী হয়েছে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা খুব শিগগিরই কার্যকর হবে।
শেয়ারবাজারে প্রভাব:
ঘোষণার পরই ভারতের দুটি প্রধান শেয়ারবাজার দ্য সেনসেক্স এবং নিফটি-র ভলিউম বাড়তে শুরু করে। এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার দ্য সেনসেক্স ৩,৬০০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায় এবং নিফটি ১,২০০ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
প্রায় প্রতিটি খাতের শেয়ারের দাম বেড়েছে:
রিয়েল এস্টেট খাত: গড়ে ৪.৪৭%
গাড়ি ও মোটরবাইক খাত: গড়ে ৩.৭৮%
ম্যানুফ্যাকচারিং খাত: গড়ে ৩.৬৯%
আইটি খাত: গড়ে ৩.৪%
মুদ্রার মান:
শেয়ারবাজারের উত্থানের পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মানও শক্তিশালী হয়েছে। সোমবার প্রতি এক ডলারের বিপরীতে রুপির মান ছিল ৯০.৪০, যা ট্রাম্পের ঘোষণার পর ১.২% বৃদ্ধি পেয়েছে।
পটভূমি:
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির আগে ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ছিল ১৫%। ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার পর এপ্রিল ২-এ ভারতের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে ২০% করা হয়। এরপর রাশিয়া থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে আগস্টে আরও ২৫% অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০%-এ পৌঁছে যায়।
এই শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে, ফলে ভারত বিকল্প বাজারের দিকে মনোনিবেশ করে। এরই মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি হয়, যা মুক্ত বাণিজ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
এবার ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসের ঘোষণার ফলে ভারতের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, শেয়ারবাজার চাঙা হয়েছে এবং রুপির মান শক্তিশালী হয়েছে।