ইপেপার / প্রিন্ট
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোলেও চুক্তি চূড়ান্ত, প্রত্যয়িত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে।
শনিবার দেওয়া তার বক্তব্যের তুলনায় এবার অনেক বেশি সংযত অবস্থান দেখা গেছে ট্রাম্পের মধ্যে। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি “মোটামুটি চূড়ান্ত” পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে নতুন বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনা এখনও চলমান এবং যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে সতর্কভাবে এগোতে চায়।
পোস্টের শুরুতেই ট্রাম্প ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি ওই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম খারাপ চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, এটি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণ না করে বরং শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তার প্রশাসনের আলোচনায় থাকা নতুন কাঠামো আগের চুক্তির সম্পূর্ণ বিপরীত হবে। তার ভাষায়, আলোচনাগুলো সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তিনি তার প্রতিনিধিদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— চুক্তির জন্য কোনো ধরনের চাপ বা তাড়াহুড়ো করা যাবে না।
ট্রাম্প আরও বলেন, “সময় এখন আমাদের পক্ষে। চুক্তি সম্পন্ন, যাচাই ও স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত সব অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে কার্যকর থাকবে। উভয় পক্ষকেই যথেষ্ট সময় নিতে হবে এবং বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরানকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে তারা কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি কিংবা সংগ্রহ করতে পারবে না।
পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর উদ্দেশে নতুন প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, যেসব দেশ এখনও আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেয়নি, তাদের এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া উচিত। এমনকি ভবিষ্যতে ইরানও এতে যুক্ত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এরপর বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয় এবং বর্তমানে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে।