ইপেপার / প্রিন্ট
চলতি বছরের শুরু থেকে ফিলিস্তিনের মসজিদ ও উপাসনালয়ে ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও বাধা বেড়েছে। ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি মাসে আল আকসা মসজিদে ২৮ বার অনুপ্রবেশ চালানো হয়েছে এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে ৫৭ ওয়াক্ত আজান দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে প্রবেশে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, বিশেষ করে ফজরের নামাজে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও আল আকসা মসজিদের ফটকে তরুণদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।
ইসলামী ওয়াক্ফ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে মোট ৪,৩৯৭ জন বসতি স্থাপনকারী দলবদ্ধভাবে এবং ইসরায়েলি পুলিশের তত্ত্বাবধানে আল আকসা মসজিদে প্রবেশ করেছে। জুমার খুতবা ও নামাজ চলাকালে মসজিদের কিবলা প্রাঙ্গণ ও কুব্বতুস সাখরা এলাকার আশপাশে অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সেখানে বাজারমুখী ফটক নিয়মিতভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, পূর্ব ফটক পুরোপুরি বন্ধ এবং জানালাগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মুসল্লি ও মসজিদের কর্মীদের ওপর তল্লাশি, গালাগাল ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও এসেছে।
ওয়াক্ফ মন্ত্রণালয় এই কর্মকাণ্ডকে মসজিদের ওপর নগ্ন আগ্রাসন, পবিত্রতার মারাত্মক লঙ্ঘন এবং মুসলমানদের অনুভূতিতে চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এটিকে মসজিদটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
এছাড়া, হেবরন শহরের জাওহার ও শহীদ মসজিদেও ইসরায়েলি বাহিনীর অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। জেরুজালেমের গেথসেমানি চার্চেও বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষ থেকে থুতু নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে, যা ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত পবিত্রতা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।