ইপেপার / প্রিন্ট
স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সংশোধিত রেগুলেশন অনুযায়ী ৪, ৩ ও ২ ক্রেডিট কোর্সের জন্য আলাদা সময়, নম্বর বণ্টন, ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং প্রশ্নপত্রের কাঠামো নির্ধারণ করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই নতুন পরীক্ষা কাঠামো প্রকাশ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও চূড়ান্ত পরীক্ষার সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৪ ক্রেডিট কোর্সে মোট নম্বর হবে ১০০। এর মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে ২০ নম্বর এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে ৮০ নম্বরের। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রে পাঠ্যসূচির সব অধ্যায় থেকে বিশ্লেষণধর্মী, ধারণাভিত্তিক, সংখ্যাগত ও সমালোচনামূলক বিস্তৃত প্রশ্ন থাকবে। মোট ১২টি প্রশ্ন দেওয়া হবে, যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ৮টির উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্ন সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্নে বিভক্ত হতে পারবে এবং প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১০ নম্বর।
৪ ক্রেডিট কোর্সে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ২০ নম্বরের বিভাজন করা হয়েছে—অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন বা কুইজে ৫ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতিতে ৫ নম্বর এবং দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড় হিসেবে ১০ নম্বর।
৩ ক্রেডিট কোর্সে মোট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫। এর মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ১৫ নম্বর এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা ৬০ নম্বরের। পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রে পাঠ্যসূচির সব অধ্যায় থেকে বিস্তৃত প্রশ্ন থাকবে। মোট ৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৬টির উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০ নম্বর এবং সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্নে বিভক্ত করা যাবে।
এই কোর্সে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ১৫ নম্বরের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন বা কুইজে ৪ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতিতে ৩ নম্বর এবং দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড় হিসেবে ৮ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২ ক্রেডিট কোর্সে মোট নম্বর হবে ৫০। এর মধ্যে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ১০ নম্বর এবং চূড়ান্ত পরীক্ষা ৪০ নম্বরের। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ঘণ্টা। প্রশ্নপত্রে পাঠ্যসূচির সব অধ্যায় থেকে বিস্তৃত প্রশ্ন থাকবে। মোট ৬টি প্রশ্নের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ৪টির উত্তর দিতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০ নম্বর এবং সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্নে ভাগ করা যাবে।
২ ক্রেডিট কোর্সে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ১০ নম্বরের বিভাজন হলো—অ্যাসাইনমেন্ট ও প্রেজেন্টেশন বা কুইজে ৩ নম্বর, ক্লাসে উপস্থিতিতে ২ নম্বর এবং দুটি ইন-কোর্স পরীক্ষার গড় হিসেবে ৫ নম্বর।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নতুন পরীক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বিশ্লেষণ ও ধারণাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়াই মূল লক্ষ্য।