ইপেপার / প্রিন্ট
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটির দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের অসহযোগিতা, কিছু প্রার্থীর প্রকাশ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রতিপক্ষের হুমকি–ধামকিতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ অভিযোগ জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির ইউসুফ আশরাফ।
ইউসুফ আশরাফ বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পরামর্শ ও লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সব দল যেন সমান অধিকার নিয়ে প্রচারণা চালাতে পারে এবং ভোটকেন্দ্রগুলো যেন নিরাপদ থাকে—এটাই আমাদের মূল দাবি। কেন্দ্র দখল, ভয়ভীতি বা কারচুপি যেন কোনোভাবেই না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি জানান, সিইসি তাদের অবহিত করেছেন যে নির্বাচনে প্রায় তিন হাজার ড্রোন মোতায়েন করা হবে। তবে খেলাফত মজলিসের মতে, দেশের সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম।
নির্বাচনী মাঠের সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে ইউসুফ আশরাফ বলেন, “নেত্রকোনা-১ আসনের কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী তাকে প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়েছেন। আমরা সেই কর্মকর্তাকে পুনরায় বহালের দাবি জানিয়েছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর লোকজন খেলাফত মজলিসের কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি তাদের নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ কমিটিতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে বলেছেন এবং একই সঙ্গে বিষয়টি কমিশনের সচিবালয়কে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খেলাফত মজলিসের এই নেতা বলেন, “কিছু দলের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে যা খুশি বলে যাচ্ছেন, এমনকি ভোটারদের বিভিন্ন প্রলোভনও দিচ্ছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন প্রার্থী ভোটারদের ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।”
তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে নির্বাচনে এখনো সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়নি। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।