ইপেপার / প্রিন্ট
নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন–এর দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজধানীর বহুমুখী সমস্যা সমাধানে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন আব্দুস সালাম। তিনি মনে করেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব নয়।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টন–এ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি রাজধানীর চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা বর্তমানে যানজট, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের মতো জটিল সমস্যায় জর্জরিত। এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকলেও টেকসই সমাধান আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, কেবল সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর করলে এ সংকট নিরসন সম্ভব নয়; বরং নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রচলিত আইন ও নীতিমালা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয় না। ট্রাফিক আইন অমান্য করা, নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা, অবৈধ দখল ও অনুমোদনহীন নির্মাণ—এসব কর্মকাণ্ড নগর ব্যবস্থাপনাকে দুর্বল করে তুলছে। নাগরিকরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হন, তাহলে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে সামাজিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
রাজধানীকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে আব্দুস সালাম বলেন, সরকার একা সব করতে পারবে না; জনগণ এগিয়ে এলে ঢাকার ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।