ইপেপার / প্রিন্ট
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের অভিযানে একজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রধান আসামি ইয়াসিন এক ভিডিও বার্তায় প্রশাসনকে উদ্দেশ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকায় অহেতুক ঝামেলা বা ষড়যন্ত্রমূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে বড় ধরনের “জনবিস্ফোরণ” ঘটতে পারে, যার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও বার্তায় ইয়াসিন প্রশ্ন তোলেন, র্যাব কী উদ্দেশ্যে গাড়ি ও পোশাক ছাড়া এলাকায় প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, কোন আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঢালাও অভিযান চালিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইয়াসিন তার বক্তব্যে আরও দাবি করেন, জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির সঙ্গে রুকন মেম্বারের লোকজন জড়িত। ডিসি পার্ক থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় তার অনুসারীরা চাঁদাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইয়াসিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চক্রের কাছে অস্ত্রের বড় ভাণ্ডার রয়েছে এবং তারাই জঙ্গল সলিমপুর দখলের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, রুকন মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এদিকে ইয়াসিন স্পষ্ট করে বলেন, প্রশাসন চাইলে তাকে সাময়িকভাবে বাড়ি থেকে সরাতে পারে, তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই। বলপ্রয়োগ বা নির্যাতনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য এবং সোর্স মনা গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সীতাকুণ্ড থানায় ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ একটি মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। ওই কর্মসূচিতে তার উপস্থিতির তথ্য পেয়ে র্যাব অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে চার র্যাব সদস্য ও এক সোর্সকে আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।
জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এখানে দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও আধিপত্যের লড়াই চলে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ইয়াসিন ও রুকন গ্রুপের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।