চামড়া শিল্পের বর্তমান সংকট কোনো স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে পরিকল্পিত আর্থিক সন্ত্রাসের ফল—এমন অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি।
রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দলটির নেতারা বলেন, চামড়া খাতকে দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে, যার কারণে কোরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না মাদরাসা ও এতিমখানা সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে উপস্থাপিত মূল বক্তব্যে বলা হয়, গত বছর সরকার লবণ বিতরণ কর্মসূচি গ্রহণ করলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি এবং এতে মধ্যস্বত্বভোগীরাই বেশি লাভবান হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
দলের নেতারা দাবি করেন, চামড়া বাজারে দীর্ঘমেয়াদি দরপতন কওমি মাদরাসার আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, অথচ অন্যান্য সব পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির নেতারা আরও বলেন, ট্যানারি মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে মাদরাসা ও ক্ষুদ্র সংগ্রাহকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বৈঠকে চামড়া শিল্প সংস্কারের জন্য রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত সংগ্রহ ব্যবস্থা, উপজেলা পর্যায়ে সরকারি কেন্দ্র স্থাপন এবং ন্যূনতম সহায়তা মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাদের মতে, এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বাজার স্থিতিশীল হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে টিকে থাকতে পারবে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশে কৃত্রিমভাবে দরপতন তৈরি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠক শেষে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চামড়া শিল্পে ন্যায্যতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যা সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।