ঢাকা মহানগরীতে চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৮ জন তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট, টার্মিনাল, বাজার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও আকস্মিক ‘ব্লক রেইড’ পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি, চেকপোস্ট এবং সিসিটিভি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, চাঁদাবাজি, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা এবং ঢাকা মহানগরীকে আরও নিরাপদ করা।
তিনি আরও জানান, বসিলা ও কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই আরও কয়েকটি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করা হবে এবং সিসিটিভি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে কঠোর বার্তা আসে তদবির সংস্কৃতি নিয়ে। মো. সরওয়ার বলেন, “অপরাধী ছাড়ানোর জন্য কেউ তদবির করলে তাকেও অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ডিএমপির অবস্থান জিরো টলারেন্স।”
চাঁদাবাজদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অপরাধী যেই হোক, সে অপরাধীই। তার পরিচয় আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
তিনি আরও জানান, শুধু ডিএমপি নয়, ডিবি, সিটিটিসি এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। প্রয়োজন হলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও মাদক চক্র ভাঙতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং বড় বড় মাদক চালান ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।
সবশেষে কমিশনার বলেন, অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।