ইপেপার / প্রিন্ট
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, আদালতের রায়ে তাকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার মেয়াদ ২০২৯ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আদালতের আদেশে তার মেয়াদকাল স্পষ্টভাবে নির্ধারিত রয়েছে। এই আদেশ বাতিল করতে হলে নতুন করে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার যে দাবি উঠেছে, তা সাবেক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তার ক্ষেত্রে নয়।
ডা. শাহাদাত আরও বলেন, আদালতের আদেশ ইংরেজিতে হওয়ায় অনেকেই তা সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না। তিনি দাবি করেন, কেন তার মেয়াদ পাঁচ বছর হবে এবং কেন আগের নির্বাচন বাতিল হয়েছে—এসব বিষয় আদালতের রায়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে। তার মতে, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সভার মাধ্যমেই তার মেয়াদকাল গণনা শুরু হয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও দায়িত্ব পালনের মেয়াদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা দেয়নি। আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর, যা শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হয়েছে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সরকারি ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এম রেজাউল করিম চৌধুরী বিজয়ী হন। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন ডা. শাহাদাত হোসেন। দীর্ঘ তিন বছর পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত রায় দিয়ে তাকে মেয়র ঘোষণা করে। পরে নির্বাচন কমিশন ৮ অক্টোবর সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।
বর্তমানে মেয়াদকাল নিয়ে ভিন্নমতের কারণে চট্টগ্রাম নগর রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।