ইপেপার / প্রিন্ট
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা ও সমন্বয়করা অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনে সম্পৃক্ত কয়েকজন প্রভাবশালী শ্রমিক নেতাকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে চারজনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে: আবুল কালাম, শামসুল মিয়া টুকু, রিপন ও আসাদুল। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আটকের বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বন্দরের চেয়ারম্যান শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন। কিন্তু আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমানো যাবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া কর্মবিরতি এবং ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার ধর্মঘটের ফলে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
পূর্ববর্তীভাবে ৫ ফেব্রুয়ারি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন চট্টগ্রামে গিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকের পর শ্রমিকরা দুই দিন জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুদকে আবেদন করেছে এবং দেশত্যাগ রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করার অনুরোধ করেছে। তালিকাভুক্ত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন মো. হুমায়ুন কবীর, মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, অন্যান্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছেন, রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলবে।
আজ সকাল থেকে বন্দরের জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহির্নোঙরসহ সব স্থানে কাজ বন্ধ রয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন গেটের সামনে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, বন্দর চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা শেষ না হলে, প্রয়োজন হলে নির্বাচনের পরও নেগোসিয়েশন চলবে।