চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বন্দরের অভ্যন্তর থেকেই কোটি টাকার কাপড়বোঝাই একটি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে বন্দর থানা।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান। মিজানুর রহমান চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃ সহকারী হিসেবে কর্মরত। অন্যদিকে আবু সুফিয়ান বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে দায়িত্ব পালন করতেন। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে কনটেইনার পাচারের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে আমদানিকৃত গার্মেন্টসের কাপড়ভর্তি ৪০ ফুটের একটি কনটেইনার গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে গায়েব হয়ে যায়। কনটেইনারটির নম্বর ছিল টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪। গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড এটি আমদানি করেছিল। এতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানা গেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, কনটেইনারটি জাহাজ থেকে খালাস করে বন্দরের জে আর ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সব ধরনের শুল্ক ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর–সংক্রান্ত এই ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহ হয়, বন্দরের ভেতরের কিছু কর্মচারীর সহায়তা ছাড়া এত বড় কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ও নথিপত্র যাচাই করে দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে বলে দাবি পুলিশের।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ হতে পারে।
ঘটনার পর বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরের ভেতর থেকেই যদি কনটেইনার উধাও হয়ে যায়, তাহলে আমদানিকারকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।