ইপেপার / প্রিন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী চট্টগ্রামে জামায়াতে ইসলামী সর্বাধিক ৯টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। বাকি আসনগুলো ভাগ পেয়েছে এলডিপি, এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও নেজামে ইসলাম পার্টি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ৯টার পর রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি জানান, সারাদেশে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে মোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী যেসব ৯টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে সেগুলো হলো—
চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই), চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড), চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর–পাহাড়তলী), চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) এবং চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী)।
এই আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা হলেন—
মীরসরাইয়ে মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, ফটিকছড়িতে মোহাম্মদ নুরুল আমিন, সন্দ্বীপে মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, সীতাকুণ্ডে মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, রাউজানে মো. শাহজাহান মঞ্জু, রাঙ্গুনিয়ায় এটিএম রেজাউল করিম, ডবলমুরিং–হালিশহর–পাহাড়তলী আসনে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, সাতকানিয়া–লোহাগাড়ায় শাহজাহান চৌধুরী এবং বাঁশখালীতে মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে এলডিপিকে দেওয়া হয়েছে দুটি আসন। এগুলো হলো— চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ)। পটিয়া আসনে এলডিপির প্রার্থী এম এয়াকুব আলী এবং চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক আসনে প্রার্থী ওমর ফারুক।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসন। এখানে এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ।
নেজামে ইসলাম পার্টিকে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী) আসন, যেখানে দলটির প্রার্থী মো. নেজাম উদ্দীন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সেখানে প্রার্থী মো. নাসির উদ্দীন। অন্যদিকে খেলাফত মজলিস পেয়েছে চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসন, যেখানে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ ইমরান।
চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে দেওয়া হলেও এটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে মো. নূর উদ্দিনের নাম।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় আগামী ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি এবং ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। একই দিনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।