কর্ণফুলী নদীর বাংলাবাজার ঘাটে নদী পারাপারের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে নদী পারাপারকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভাড়া বৃদ্ধি বাতিল এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের দাবিতে নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতি ১৫ টাকা ভাড়ায় নদী পারাপার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি ঘাট পরিচালনাকারী সাম্পান মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভাড়া ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন নদী পারাপারকারী শ্রমজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ঘাটের অবকাঠামো এখনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে যাত্রী ওঠানামার জন্য ব্যবহৃত সাঁকো দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
এ সময় তারা ঘাটের ভাঙা সাঁকো দ্রুত সংস্কার, নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং ঘাটসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ দূষণ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বক্তাদের মতে, নিকটবর্তী ফিশারি ও বিভিন্ন উৎস থেকে আসা বর্জ্য ও রাসায়নিকযুক্ত ময়লা নালার মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
যাত্রীরা বলেন, সাধারণ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে ভাড়া বৃদ্ধি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের হার অর্থাৎ ১৫ টাকা বহাল রাখতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঘাট ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভাড়া পুনরায় ১৫ টাকায় নামিয়ে না আনা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নদী পারাপারকারী সাধারণ যাত্রীরা।