ইপেপার / প্রিন্ট
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক বলেছেন, রাষ্ট্র ও সরকারের প্রকৃত মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের ইতিবাচক রায়ই আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাই দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য সবাইকে গণভোটে অংশ নিতে হবে।
গতকাল সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে গণভোট ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে তিনটি প্রধান দায়িত্ব ছিল—গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের সাজাও হয়েছে।
রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কেউ রাষ্ট্রকে আবার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের কয়েকটি মৌলিক বিষয়ের ওপর জনগণের মতামত জানতেই গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। আর সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব শেষ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নতুন ভোটারদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, যারা জীবনে প্রথমবার ভোট দেবেন তারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। কারণ তাদের প্রথম ভোট হবে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য এবং নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। গণভোটের পক্ষে জনগণের সুচিন্তিত মতামতের ওপরই দেশের অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
ফারুক ই আজম আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি সচ্ছল, সাবলীল ও মানবিকবোধসম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
উঠান বৈঠকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং নতুন ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।