1. numanashulianews@gmail.com : kazi sarmin islam : kazi sarmin islam
  2. islamkazisarmin@gmail.com : newstv : Md newstv
  3. anonnaa5481@gmail.com : newstv2232 :
  4. admin@newstvbangla.com : newstvbangla : Md Didar
খোলা আকাশের নিচেই ‘সেলুন’, পিঁড়িতে বসে চলে টিকে থাকার লড়াই - NEWSTVBANGLA
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
0xde1d24f3 সার্কিট ব্রেকার নির্ধারণে ডিএসই-সিএসইকে পূর্ণ এখতিয়ার দিল বিএসইসি এনসিটি-সিসিটি ইজারা উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন-সমাবেশ সরকার-বিরোধী দলের সমন্বয়ে ঢাকা-১৫-এর উন্নয়নে কাজের অঙ্গীকার ৮ জেলায় সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা, নিরাপদে থাকার পরামর্শ নন-ক্যাডার পদে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত, কাগজপত্র না দেওয়ায় ১ জনের মনোনয়ন বাতিল পিএসসির বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা একক বা সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার পরিকল্পনা সরকারের চট্টগ্রাম বন্দরে আধুনিক সেবার নতুন অধ্যায়: ৮০ কোটি টাকার ওএসএস ভবন চালু, নিরাপত্তা ও সেবায় বড় পরিবর্তন সংস্কার বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের প্রেমের টানে ধর্মান্তর, ইসলাম ছেড়ে হিন্দু হলেন যুবক, প্রেমিকা গ্রেপ্তার

খোলা আকাশের নিচেই ‘সেলুন’, পিঁড়িতে বসে চলে টিকে থাকার লড়াই

প্রতিনিধি

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে গেলেই চোখে পড়ে এক ভিন্ন দৃশ্য। নেই কোনো আধুনিক সেলুন, নেই ঝকঝকে চেয়ার কিংবা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি। খোলা আকাশের নিচে, মাটির ওপর ছোট্ট একটি কাঠের পিঁড়ি, পাশে আয়না আর পুরনো ব্যাগে রাখা ক্ষুর-কাঁচি এই সামান্য আয়োজনেই দাঁড়ি-চুল কাটছেন জেলার নরসুন্দররা। প্রকৃতির রোদ-বৃষ্টি-শীত উপেক্ষা করে এভাবেই তারা চালিয়ে নিচ্ছেন জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম। অথচ তাদের খোঁজ রাখার যেন কেউ নেই।

জানা গেছে, জেলার ৯টি উপজেলার চর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রায় তিন শতাধিক নরসুন্দর ভ্রাম্যমানভাবে খোলা আকাশের নিচে সেলুন বসিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সপ্তাহের নির্দিষ্ট হাটের দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারের কোলাহলের মাঝেই চলে তাদের কর্মযজ্ঞ।

উলিপুর উপজেলার ধরনী বাড়ী এলাকার নর সুন্দর মজিবর রহমান (৬০) বলেন, কয়েক বছর থাকি খোলা আকাশের নিচে পিঁড়িতে দাঁড়ি-চুল কাটার কাজ করছি। বেশি কামাই হয় না। দিনে ৪ থেকে ৫ শত টাকা কামাই হয়। কোনো কোনো দিন ২০০ টাকা। এখন যে যুগ হইছে সবাই বড় বড় দোকানে সেলুনে যায়। তাদের ঠান্ডার সময় ঠান্ডা আর বৃষ্টি ও রোদের সময় কামাই হয় না। আমার পরিবারে স্ত্রী ও বিধবা মেয়ে নাতি-নাতনিসহ ৬ জন। কি করি কোনো রকম সংসার চলছে। যদি অসুখ ধরে তাহলে তো আরও বিপদ। ভোট আইসলে এটা দেব ওটা দেব, ভোট ফুরাইলে কেউ আর খোঁজ-খবর নেয় না। এই যে ঈদ আইসপের লাগছে নতুন কাপড় কিনবের পামো কি না জানি না। ছাওয়া পাওয়ায় তো চায়া আছে নতুন কাপড়ের জন্য। খুব চিন্তায় আছি।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর হাটে গেলে দেখা যায়, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন নরসুন্দর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন। কারও হাতে কাঁচি, কারও হাতে ক্ষুর। পাশে একটি আয়না, ছোট ব্যাগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, এই সামান্য আয়োজনেই চলছে তাদের সংসারের চাকা।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ার চর থেকে চুল কাটাতে আসা মো.আমিনুল ইসলাম (৫৫) বলেন, আমরা গরিব মানুষ। সেলুনে গেইলে ৫০-৭০ টাকা লাগে। এখানে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় হয়ে যায়। কাজও খারাপ না।

একই ইউনিয়নের গোড়ালের চর থেকে আসা আনিছ মিয়া (৫৪) বলেন, আমাদের চরে তো কোনো সেলুন নাই। আমরা এই হাটে এসে চুল-দাঁড়ি কাটি। টাকাও কম লাগে, কাজও ভালো।

নরসুন্দর কাশেম আলী বলেন, এটি আমার বাপ-দাদার পেশা। অন্য কোনো কাজ শেখার সুযোগ হয় নাই। প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়েই চলে সংসার, সন্তানের পড়াশোনা ও ওষুধের খরচ চালানো মুশকিল হযে যায়। যে দিন কামাই হয় না সেই দিন অনেক কষ্টে দিন যাপন করি।

কুড়িগ্রাম নরসুন্দর সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র বলেন, ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিলের খরচ না থাকায় তারা কম টাকায় কাজ করতে পারেন। কিন্তু আয় খুব সীমিত। হাটের দিনের ওপর নির্ভর করে আয়-রোজগার। বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে আয় আরও কমে যায়।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন শহরের সেলুনগুলো বদলে গেছে, তখনও কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের এই নরসুন্দররা পড়ে আছেন সময়ের পেছনে। খোলা আকাশের নিচে বসেই তারা ধরে রেখেছেন বংশ পরম্পরার পেশা। কিন্তু তাদের এই সংগ্রামী জীবন যেন অদেখাই থেকে যাচ্ছে—সমাজ ও রাষ্ট্রের চোখের আড়ালে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: রায়তাহোস্ট
error: Content is protected !!