ইপেপার / প্রিন্ট
খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় শাশুড়ি ও দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মামলার প্রধান আসামি ও শিশু দুটির সৎবাবা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক মো. ফরিদুজ্জামানের কাছে তিনি জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঈদের দিন রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে রফিকুলকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তার শাশুড়ি বেবী বেগম। পরদিন সকালে তিনি আবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এ সময় শাশুড়ির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন রফিকুল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাটি দেখে ফেলায় শিশু শামীমকেও হত্যা করা হয়। পরে অপর শিশু মুস্তাকিম ঘুম থেকে জেগে উঠলে তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহগুলো ঘরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন রফিকুল। ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে স্থানীয়দের সন্দেহ তৈরি হয়। এ সময় তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে খুলনা ছাড়েন। পরে বরিশালের কাশিপুর এলাকা থেকে র্যাব-৬ তাকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধ অস্বীকার করলেও পরে নিজের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন রফিকুল। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।