পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা। তবে এবার গরুর তুলনায় খাসির চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেড়েছে কয়েক গুণ। রাজধানীর মিরপুরের কালশী পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের খাসিও বিক্রি হচ্ছে ১৭ থেকে ২০ হাজার টাকায়। আর বড় ও স্বাস্থ্যবান খাসির দাম উঠেছে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
হাটে দেশি, Black Bengal goat, Jamunapari goat, Beetal goat ও বিভিন্ন ক্রস জাতের খাসি উঠেছে। বিক্রেতারা বলছেন, পশুখাদ্য, ওষুধ, পরিবহন ও লালন-পালনের খরচ বাড়ায় এবার বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছোট আকারের দেশি ও ব্ল্যাক বেঙ্গল খাসির দাম ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকার মধ্যে। মাঝারি আকারের খাসি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৮ হাজার টাকায়। অন্যদিকে বড় আকারের যমুনাপারি, বিটাল ও ক্রস জাতের খাসির দাম হাঁকা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা। কিছু বড় ও মোটাতাজা খাসির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।
হাটে আসা অনেক ক্রেতাকে দরদাম করেও শেষ পর্যন্ত পশু না কিনে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মিরপুরের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “ভাবছিলাম ২০ হাজার টাকার মধ্যে ভালো একটা খাসি পাব। কিন্তু সেই দামে ছোট খাসি ছাড়া কিছুই মিলছে না। দাম অনেক বেশি।”
আরেক ক্রেতা হাবিব উল্লাহ বলেন, “সব হাটেই খাসির দাম বেশি। মনে হচ্ছে এবার গরুর চেয়ে খাসির চাহিদা বেশি। বিক্রেতারাও তাই দাম কমাচ্ছেন না।”
অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে খাসি পালনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় কম দামে বিক্রি করলে লাভ থাকবে না। কুষ্টিয়া থেকে খাসি নিয়ে আসা বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “এক বছর ধরে খাবার, চিকিৎসা আর পরিবহনে অনেক খরচ হয়েছে। লাভ না থাকলে আগামী বছর আবার খামার চালানো কঠিন হবে।”
সকাল থেকে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বিকেলের পর হাটে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। ইজারাদারদের আশা, ঈদের আগের দিন হওয়ায় শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও বাড়বে। তারা জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটে পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রাখা হয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী হাসিল আদায় করা হচ্ছে।