ইপেপার / প্রিন্ট
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন তিনতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি মালিক, ড্রেজার মালিক এবং প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এই বালু লুট চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য গড়ে উঠেছে এলাকায়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ মে গভীর রাতে উপজেলার পাড়ুয়া-রুস্তমপুর মধ্যবর্তী তিনতলা এলাকায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার।
প্রশাসন জানায়, অভিযানের সময় বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত অন্তত সাতটি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পলাশ তালুকদার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, নদী বহির্ভূত কৃষিজমি ও বিস্তীর্ণ এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে জমি খাল-বিলে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিরাতে ৮ থেকে ১০টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি ট্রাক্টর থেকে কয়েক হাজার টাকা এবং প্রতিটি ড্রেজার থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হয়।
ভূমির মালিক নাঈম মোহাম্মদ শহীদ তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, একটি প্রভাবশালী চক্র তাদের রেকর্ডকৃত জমি থেকে জোরপূর্বক বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
অন্যদিকে স্থানীয় আরেক ভূমি মালিক আঙ্গুর মিয়া বলেন, কৃষিজমিতে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকার পরিবেশ ও ভূমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ফলে গভীর রাতেও অবাধে বালু উত্তোলন চলছে এবং প্রশাসনের নজরদারি না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এ বিষয়ে ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি–এর ইনচার্জ নূর আহমেদ চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খবর পেলেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নেয়।
স্থানীয়রা অবিলম্বে নদী বহির্ভূত এলাকায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।