ইপেপার / প্রিন্ট
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই তিনটি খাত দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব খাতের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী ও টেকসই হবে। তিনি জানান, কৃষি উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বছরের ছয় থেকে আট মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকলেও তারা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বারো মাস ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমি দেশের বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মাছ ও ভাত বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই মৎস্য খাতের উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কৃষি উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিতে হবে।
আমিন উর রশীদ বলেন, দেশের আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অতীতের সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি দেশের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মৎস্যসম্পদের মূল ভাণ্ডার হিসেবে এসব জলাশয় পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।