দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং আসন্ন মৌসুমে সারের চাহিদা পূরণে ৬০ হাজার টন ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মরক্কোর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওসিপি ন্যুট্রিক্রপসের কাছ থেকে দুটি পৃথক লটে এই সার আমদানি করা হবে। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি ক্রয়প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং OCP Nutricrops–এর মধ্যে সম্পাদিত সমঝোতার ভিত্তিতে সারগুলো সংগ্রহ করা হবে।
প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৫৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ চালানের প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮৮ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রস্তাবের আওতায় আরও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি করা হবে, যার জন্য ব্যয় হবে ২৬৮ কোটি ৫৬ লাখ ৫ হাজার ১৭৫ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২৬ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
দুটি চালান মিলিয়ে মোট ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ৫২২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৭৫ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দেশে ফসফেটজাত সারের চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের কাছে সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ও পরবর্তী মৌসুমের কৃষি কার্যক্রমকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে টিএসপি সার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামার মধ্যেও সময়মতো সার আমদানি নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।