সম্প্রতি কূটনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে পাল্টাপাল্টি স্থগিত থাকা ঢাকা–দিল্লি ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পুনরায় ভিসা প্রদান শুরু করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে সব ধরনের ভিসা পরিষেবা চালু হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দুই দেশের সম্পর্কে এই অগ্রগতি দেখা গেল।
এর আগে ভারতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম শিগগিরই পুনরায় চালু করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হওয়ায় স্থগিত সেবা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যা ঘটেছিল
গত ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়। তার মৃত্যুর রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ২১ ডিসেম্বর থেকে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (আইভ্যাক) কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
এর পরদিন পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে দিল্লি ও আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকেও ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
সম্পর্কের উন্নতি
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক বিবৃতিতে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। পরে ফল ঘোষণার পর তাদের মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনও হয়।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকার পক্ষ থেকে মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার পরিবর্তে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন।
এদিকে সিলেটে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়াও দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অগ্রগতি দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভিসা সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণে আগ্রহী নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।








