পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগের পর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ-এ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্টকোম (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি ‘গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
সেন্টকোমের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরান কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
মার্কিন পক্ষ আরও জানায়, কুয়েতে দুটি এবং বাহরাইনে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে কয়েকটি বেসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে পাঠানো ড্রোনও মার্কিন নৌবাহিনী ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পরই ওই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ?
কেশম দ্বীপ ইরানের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত এই দ্বীপে তেল ও গ্যাস সংরক্ষণের একাধিক বড় স্থাপনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জ্বালানিপণ্য রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত এটি।
বিশ্লেষকদের মতে, কেশমে হামলা কেবল সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়; এটি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত সক্ষমতার প্রতিও একটি বার্তা। ফলে এই ঘটনার প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—এর মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে, পাল্টাপাল্টি হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।