ইপেপার / প্রিন্ট
ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায় যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় র্যাবের অভিযানে দুটি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিদেশি রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়, এবং র্যাব জানিয়েছে, এই কিলিং মিশনে মোট ছয় থেকে সাতজন জড়িত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং চাঁদাবাজির উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)। র্যাবের দাবি, তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পর অবৈধভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তারা সফল হয়নি। পরবর্তীতে তারা বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছিল।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) র্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির জানান, গ্রেপ্তার লোপন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রিভলবার ও তিন রাউন্ড গুলি সরবরাহ করেছিল। লোপন তার স্বীকারোক্তিতে জানায় যে, গোলাম কিবরিয়াকে হত্যার জন্য সে দুটি রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং একটি রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে জনগণকে সরিয়ে দিতে।
র্যাব আরও জানায়, কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডে মোট তিনজন শ্যুটার সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে একজন শ্যুটার জনি ইতোমধ্যে ধরা পড়েছে, এবং আজ (শুক্রবার) আরও দুই শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, অস্ত্র সরবরাহ এবং নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কিলিং মিশনে “ভাগিনা মাসুম”, “পাতা সোহেল” এবং “সুজন” নামক ব্যক্তিরাও জড়িত ছিল।
কোম্পানি কমান্ডার শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতও উজ্জ্বল ছিল। কিবরিয়া মশিউর রহমান মশির চাঁদাবাজি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তার বিরোধিতা করায় তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। মশি ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং তার বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার জন্য কিবরিয়া ঝামেলা সৃষ্টি করেছিলেন।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বরে গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, তাদের একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালককে গুলি করে আহত করা হয়।
পল্লবী থানায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনার দায়ের করা হত্যামামলায় আসামি হিসেবে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এবং আরও সাত-আটজন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে মামলা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর জনি নামে এক শুটারকে জনতা আটক করে পুলিশে দেয়, এবং পরবর্তীতে র্যাব গ্রেপ্তার করে মনির হোসেন ওরফে সোহেল (পাতা সোহেল) এবং সুজন (বুকপোড়া সুজন)।
র্যাবের তদন্ত এখনও চলমান, এবং এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।