ইপেপার / প্রিন্ট
Border Security Force (বিএসএফ)-এর গুলিতে কসবা সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী দাবি করেছে, আত্মরক্ষার্থেই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ও বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সিপাহীজালা জেলার কমলাসাগর সীমান্ত চৌকির কাছে এ ঘটনা ঘটে। বিএসএফের দাবি অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৫ জনের একটি বাংলাদেশি দল রাতের অন্ধকারে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে মালামাল আদান-প্রদানের চেষ্টা করছিল। এ সময় তাদের বাধা দেওয়া হলে তারা বিএসএফ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আত্মরক্ষার কথা বলে বিএসএফ সদস্যরা সরাসরি গুলি ছোড়ে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে দুই বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরে আহত অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে বিএসএফ। তারা হলেন নবীন হোসেন (২০) এবং মোহাম্মদ মোরসালিন (৪০)। ভারতীয় বাহিনীর দাবি, আহত অবস্থায় আটক করার পর তারা নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে স্বীকার করেন এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথাও জানান।
এদিকে সীমান্তে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষের অভিযোগ, প্রায়ই ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে, যা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। মানবাধিকার কর্মীরাও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশের Border Guard Bangladesh (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এমন প্রাণহানির ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্তে সহিংসতা বন্ধে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।