ইপেপার / প্রিন্ট
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের যে কমিটমেন্ট নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিয়েছিল, তা ফোকাসে রেখেই কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমরা যে কমিটমেন্ট দিয়েছি, সেটাকেই ফোকাসে রেখে এগিয়ে যাচ্ছি। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ইনশাআল্লাহ, একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশন অনুষ্ঠিত হবে।”
আগের দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার বর্তমানে কারাগারে থাকলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে সিইসি বলেন, কমিশন জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কাজ করছে। ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, “কমিশন শুরু থেকেই আস্থা পুনর্গঠনের দিকে নজর দিয়েছে। আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।”
সিইসি জানান, দেশের হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের সহযোগিতা রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সীমিত সময়ের মধ্যেও প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে নির্ধারিত শ্রেণির ভোটারদের জন্যও ডাক ভোটের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যালট ইতোমধ্যে ফেরত এসেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত। একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই শেষে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ভোট শেষে কেন্দ্রেই গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে, যা পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সিইসি জানান, ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক এবং ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সিইসি গণমাধ্যমের ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, কোনো বিচ্যুতি থাকলে তা চিহ্নিত করতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনেই কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।