ইপেপার / প্রিন্ট
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভায় পরিকল্পিত ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য মহাসড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। ফলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়, যা এখন জনদুর্ভোগ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন প্রায় ২০ টনের বেশি বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে। নিয়মিত অপসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লার স্তূপ দিন দিন বড় হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে পথচারী, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করছেন, ফলে ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ময়লার কারণে রাস্তার একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ময়লার স্তূপে মাছি, মশা ও রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে গেছে। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বর্ষাকালে ময়লার সঙ্গে মিশে দূষিত পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
পৌর প্রশাসক ও কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা জানান, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরও দীর্ঘদিন স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড গড়ে তোলা হয়নি। বর্তমানে জনবসতি থেকে দূরে উপযুক্ত নতুন জায়গা খুঁজে ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।