ইপেপার / প্রিন্ট
বর্তমানে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। যারা কৃত্তিম সংকট সৃষ্টি করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বার্তায় বলা হয়, খুচরা পর্যায়ে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক এর চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এলপিজির বাজার স্বাভাবিক করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অনার্স এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে আজ জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে চলমান এলপিজি সংকট বিষয়ে যেসব পর্যবেক্ষণগুলো উঠে আসে সেগুলো হলো-
১। দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। যদিও বিশ্ব বাজারে মূল্য বৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকট ও কিছু কিছু কার্গো এর (জাহাজ) উপর স্যাংশন আরোপ করায় আমদানি পর্যায়েও কিছু সংকট উদ্ভূত হয়েছে।
২। প্রাপ্ত তথ্য হতে দেখা যায়, নভেম্বর ২০২৫ মাসে এল পি জির আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অথচ ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধি হলেও বাজারে এলপি গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।
৩। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এ মাসে এলপিজি সিলিন্ডার এর দাম বৃদ্ধি করতে পারে জেনে খুচরা বিক্রেতারা এ সংকট তৈরি করেছে মর্মে এলপিজি এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ এবং আমদানিকারকরা জানিয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় এলপিজি সিলিন্ডার এর দাম ১২৫৩ থেকে ১৩০৬ টাকায় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
৪। ইতোমধ্যে গ্রিন ফুয়েল বিবেচনায় এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত কিছু দাবির বিষয়ে সংস্লিষ্ট (এলসি সহজীকরন, আরোপিত ভ্যাট হ্রাস করা) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনপূর্ক দাবিসমূহ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এ সকল পদক্ষেপের ফলে এল পি জির দাম দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।