ইপেপার / প্রিন্ট
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি-ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এবার এক হাটের জন্য আনা পশু বা পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক অন্য হাটে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘ছিনতাই মামলা’ করার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ১৮ ও ১৯ মে ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত দুই দফা সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, গোয়েন্দা সংস্থা, দুই সিটি কর্পোরেশন, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, এবারের কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে অনুমোদনহীন হাট বন্ধ, পশুবাহী গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল, রাস্তা দখল রোধ, জাল টাকা শনাক্তকরণ এবং নগরবাসীর ভোগান্তি কমানোর ওপর। নির্ধারিত সীমানার বাইরে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সমন্বয় সভায় হাট ইজারাদারদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রতিবছর এক হাটের গরু আরেক হাটে জোর করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যাপারীরা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। কখনো কখনো ছিনতাইকারী চক্রও এতে জড়িয়ে পড়ে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপি জানায়, এবার এ ধরনের ঘটনায় সরাসরি ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কোনো ব্যাপারী যদি অভিযোগ করেন যে তার পশুবাহী গাড়ি জোরপূর্বক অন্য হাটে নেওয়া হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা করা হবে। এমনকি যে হাটে জোর করে পশু নেওয়া হবে, সেই হাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, পশুবাহী ট্রাক যেন নির্বিঘ্নে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারে সে বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ডিএমপি যৌথভাবে কাজ করবে। তিনি বলেন, পশুবাহী গাড়িতে গন্তব্য হাটের নাম ও ব্যানার স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।
ডিএমপির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রাস্তায় বা ফ্লাইওভারে পশুবাহী ট্রাক দাঁড় করানো যাবে না। পশু সরাসরি নির্ধারিত হাটে নিয়ে নামাতে হবে। কোথাও রাস্তার ওপর পশু নামানো হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজধানীর গাবতলী, যাত্রাবাড়ী, আবদুল্লাহপুর, মহাখালী, পোস্তগোলা ও আমিনবাজার এলাকায় বাড়তি ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এদিকে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে জাল টাকা, চাঁদাবাজি, অজ্ঞানপার্টি ও পশু ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ নজরদারি থাকবে। প্রতিটি অনুমোদিত পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। ইউনিফর্ম পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দারাও দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, কোরবানির পশুর চামড়া পরিবহন ও সংরক্ষণেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। একইসঙ্গে ঈদের সময় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।